উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের কাছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও আহতের ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ও আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। হাসপাতালে রক্তের সংকট দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সোমবার, ২১ জুলাই দুপুর ১টার দিকে ঢাকার উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাইমারি ক্যাম্পাসের পাশেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি F-7 BGI (701) মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান। বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দ ও দাউ দাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়।
প্রাথমিক তথ্যমতে, বিমানটিতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর ছিলেন। বিমানে অন্য কেউ ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দগ্ধ ও আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহতদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বার্ন ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, তাদের হাসপাতালে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬০ জন দগ্ধ রোগী ভর্তি হয়েছেন। অনেকের শরীরের ৫০ শতাংশ বা তার বেশি পুড়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থলের পাশেই একটি স্কুল থাকায় আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু শিক্ষার্থী। হাসপাতালে পৌঁছানো স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াও অনেকেই নিজস্ব যানবাহনে করে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন।
চিকিৎসা দিতে গিয়ে দেখা দেয় রক্তের সংকট। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদানের জন্য সামাজিক মাধ্যমে ও হাসপাতাল থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা সহায়তায় অন্যান্য হাসপাতাল থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসে কাজ করছেন।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, বিমান বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তুতি চলছে।