যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানে প্রায় ২০ ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, আলোচনা ফলপ্রসূ না হলেও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে পরবর্তী বৈঠক কবে হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানগামী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপকে অনেকেই উত্তেজনা বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি প্রধান ইস্যুতে মতবিরোধ থেকেই আলোচনা থমকে যায়—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ভূরাজনৈতিক প্রভাব এবং হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচল নিয়ে বিরোধ।
দ্য ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির গবেষণা পরিচালক প্যাট্রিক ক্লসনের মতে, অচিরেই নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে সংঘাত পুনরায় জোরদার হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
এদিকে মার্কিন বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—একদিকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও চাপ বাড়ানো, অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা।
বর্তমানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা ২১ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যেই নতুন করে সমঝোতার চেষ্টা হতে পারে। পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
এই পুরো সংকটে হরমুজ প্রণালি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কারণ, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথেই পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালিকে ঘিরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সবচেয়ে বেশি।