জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য সংবিধান বাতিল নয়; বরং সংবিধানের আলোকে বিচার বিভাগকে আরও স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ কাঠামোয় দাঁড় করানো এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালনের শেষ দিনে বিদায়ী বক্তব্যে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের নৈতিক ভিত্তি শক্ত থাকলে সুপ্রিম কোর্ট সব সময় ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার নিরাপদ আশ্রয় হয়ে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিচার বিভাগকে অবশ্যই সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অনুসরণ করতে হবে, যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচারিক স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক চর্চা, নাগরিক অধিকার এবং জনগণের সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের শক্তি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সততা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সম্মিলিত মানসিকতাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রধান ভরসা।
এদিকে শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে আপিল বিভাগের এজলাসে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা জানানো হয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি, আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধান বিচারপতির সময়ে বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবের চর্চা থেকে সরে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার নেতৃত্বেই মাসদার হোসেন মামলার রায়ের বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কার্যকর রূপ পেয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, দায়িত্ব পালনকালে প্রধান বিচারপতি সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সাংবিধানিকসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিষ্পত্তি করেছেন।
উল্লেখ্য, দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করবেন। তবে সে সময় সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবারই ছিল তার কার্যত শেষ কর্মদিবস।