প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগের সংস্কারের লক্ষ্য প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৩১ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান: বিচার বিভাগের সংস্কার' শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, সংস্কার কেবল আইন বা অধ্যাদেশে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, তার সংস্কার রোডম্যাপ জনগণের কাছে পৌঁছে দিতেই তিনি দেশের পথে নেমেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সংস্কারের প্রায় ৮০ শতাংশ লক্ষ্য ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে এবং বাকি পদক্ষেপগুলো তাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণজাগরণ বিচার বিভাগের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়েছে। সেপ্টেম্বরে ঘোষিত রোডম্যাপ ছিল তারই প্রতিক্রিয়া। তিনি বলেন, সরকারের কাছে পাঠানো সংস্কার প্রস্তাব, জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল গঠন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নতুন দুটি নীতিমালা প্রণয়ন, দেশব্যাপী রোডশো এবং বাণিজ্যিক আদালতের প্রস্তুতি—সবই প্রমাণ করে যে তারা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।
তিনি আরও বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর তিনি বিচার বিভাগের সংস্কার রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি বিচার ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করতে এবং সেবাগুলোকে গতিশীল করতে কাজ করছেন। বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রধান বিচারপতি সংস্কার প্রক্রিয়ায় পাশে থাকার জন্য আইনজীবী সমিতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতি পাশে না থাকলে এসব সংস্কার সম্ভব হতো না। জেলাগুলোতে বার অ্যাসোসিয়েশনও তাদের সঙ্গে কাজ করেছে, যা প্রমাণ করে সংস্কার শুধু বিচারকদের কাজ নয়। তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনকে তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন।
সভায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান মিলন ছাড়াও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।