বিএনপির আইনজীবীরা দাবি করেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন শুনানিতে পরিকল্পিতভাবে হট্টগোল সৃষ্টি করে বিচার বিভাগকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, বিদেশে বসে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপুল অর্থ ব্যয়ে বহিরাগতদের দিয়ে বিচার বিভাগ ও দেশকে অস্থির করার ষড়যন্ত্র করছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ওপর হামলারও অভিযোগ তুলেছেন তারা।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘বিচারকার্যে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিশৃঙ্খলার’ প্রতিবাদে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন শুনানিতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা ঘটিয়ে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দিল্লিতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে বহিরাগতদের সহায়তায় দেশ ও বিচার বিভাগে অস্থিরতা সৃষ্টির চক্রান্ত করছেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী সরাসরি জড়িত বলেও দাবি করা হয়।
বিএনপির আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবীকে এজলাসের ভেতরেই মারধর করা হয়েছে, যা আদালতের শৃঙ্খলা ভঙ্গের স্পষ্ট প্রমাণ। তারা প্রধান বিচারপতির কাছে আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, সোমবার (১১ আগস্ট) খায়রুল হকের জামিন ও মামলা বাতিলের আবেদনের শুনানিতে আওয়ামীপন্থী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওইদিন রাতেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বেআইনি রায় প্রদান ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে ২৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে ভার্চুয়ালি গ্রেফতার দেখানো হয়।