প্রতিবেদন বলছে, গত দেড় বছরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত মামলা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে যোগাযোগ ও সমঝোতা ছাড়া অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
রাজধানীর গুলশান ও মাদানী অ্যাভিনিউসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শতকোটি টাকার জমি কেনাবেচায় এই দম্পতির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। কিছু সম্পদ সরকারি নজরদারি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা হতে পারে।
পলিথিনবিরোধী অভিযান শুরুর পর কিছুদিন কঠোরতা দেখা গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা শিথিল হয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে বাজারে আবার আগের মতোই পলিথিনের ব্যবহার বেড়ে যায়।
সিলেটের ভোলাগঞ্জ এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতার পরও দীর্ঘ সময় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিবেশ ক্ষতি ও রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বন বিভাগের পদায়ন ও ইটভাটার লাইসেন্স প্রদানেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, লাভজনক পদে নিয়োগ ও লাইসেন্স পেতে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে।
এছাড়া পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দেড় বছরে কয়েকশ কোটি টাকার কার্যাদেশ বিতরণে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, পাশাপাশি গবেষণার নামে অর্থ ব্যয়ের অনিয়মও সামনে এসেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে মামলা ও প্রশাসনিক চাপের মুখে ফেলে পরে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, যা ব্যবসায়িক পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি সংস্থার ভেতরে অঘোষিত প্রভাববলয় তৈরি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে হস্তক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা। এতে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন