বীমা খাতের অন্দরমহলে রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় পরিণত হয়েছে অনেক বীমা কম্পানি। সাধারণ বীমা এবং জীবন বীমায় গ্রাহকের প্রিমিয়ামের বড় অংশ অতি ব্যয়ে খরচ হচ্ছে। বর্তমানে ৮২টি বীমা কম্পানির মধ্যে ৩২টি ঝুঁকিতে থাকলেও ৪২টি কম্পানি অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। জীবন বীমার ক্ষেত্রে ৩৬টি কম্পানির মধ্যে ২০টি সীমার অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।
গ্রাহকের প্রিমিয়ামের অর্ধেকের বেশি অর্থ খেয়ে ফেলেছে ১৯টি জীবন বীমা কম্পানি। ২০২৪ সালে সরকারি-বেসরকারি ২০টি জীবন বীমা কম্পানি ১৫৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। কমিশন, বেতন-ভাতা, অফিসভাড়া ও অন্যান্য খাতে এই অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম জাহীদ বলেন, বীমা খাতে তিনটি সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে—নৈতিক বিপত্তি, তথ্য ঘাটতি এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থার দুর্বলতা। এর ফলে গ্রাহকের অর্থ লুটপাট হচ্ছে।
আইডিআরএর বিশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পদ্মা লাইফ ও সানলাইফ ইনস্যুরেন্স দ্বিগুণ ব্যয় করেছে, স্বদেশ লাইফ প্রিমিয়ামের চেয়েও বেশি ব্যয় করেছে। মোট ১৯টি কম্পানি প্রিমিয়ামের অর্ধেকের বেশি ব্যয় করেছে। সীমা লঙ্ঘনের কারণে আইডিআরএ ২০২৩ সালে কয়েকটি কম্পানিকে জরিমানা করলেও ২০২৪ সালে অতিরিক্ত ব্যয় অব্যাহত ছিল।
গ্রাহকরা বছরের পর বছর প্রিমিয়াম জমা দিয়ে বীমার টাকা পাচ্ছেন না। উদাহরণস্বরূপ, মিরপুরের রাহিমা বেগম তাঁর স্বামীর জীবন বীমার টাকা এখনও পাননি। ৩৬টি জীবন বীমা কম্পানির মধ্যে মাত্র চারটি গ্রাহকের পাওনা নিষ্পত্তি করেছে। বর্তমানে ৩২ কম্পানির কাছে গ্রাহকের পাওনা চার হাজার সাত কোটি টাকা, যার মধ্যে ফারইস্ট লাইফ ইনস্যুরেন্সের কাছে দুই হাজার ৯১৭ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
আইডিআরএর মতে, সীমার অতিরিক্ত ব্যয় আইনভঙ্গ। গ্রাহকের টাকা সুরক্ষিত রাখতে সীমা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। নয়তো বীমা খাতের আস্থা ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন হবে।