নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করতে সরকারের ব্যর্থ চেষ্টা দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। পুলিশ মুখপাত্র বিনোদ ঘিমিরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন মোট ৫১ জন। তাদের মধ্যে আছেন ২১ জন বিক্ষোভকারী, ৯ জন কয়েদি, ৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৮ জন সাধারণ নাগরিক। আহত হয়েছেন প্রায় ১,৩০০ জন, যাদের বেশিরভাগই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন।
এ ছাড়া কারাগার থেকে পালিয়েছে প্রায় ১৩,৫০০ বন্দি। তাদের মধ্যে কিছুজন ধরা পড়লেও এখনো ১২,৫৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত কয়েদিদের অনেকে পালানোর সময় বা পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মারা গেছেন। অনেক পলাতক ভারত সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করে, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী আটক করেছে।
অস্থিরতার মধ্যে সেনাবাহিনী কারফিউ জারি করেছে এবং জানায়, লুট হওয়া ১০০টিরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের হাতে স্বয়ংক্রিয় রাইফেলও দেখা গেছে।
এই রাজনৈতিক সংকটের সময়ে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল ও সেনাপ্রধান আশোক রাজ সিগদেল সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি এবং এক তরুণ নেতার সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানিয়েছেন। আলোচনায় থাকা এক সংবিধান বিশেষজ্ঞ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সুশীলা কারকিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভকারীরা তাকেই সরকারের নেতৃত্বে দেখতে চায়।
সূত্র: আল জাজিরা।