ইরানি লেবার নিউজ এজেন্সির (আইএলএনএ) প্রতিবেদনে দেশটির পরিসংখ্যান কেন্দ্রের সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে পণ্যের দাম ৮৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে খাদ্য ও পানীয়ের দাম বৃদ্ধির হার ছিল ১২৮ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাবারের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত এক বছরে অন্তত আটটি প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। শুধু জুলাই মাসে মাসিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
এদিকে অনানুষ্ঠানিক বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মূল্য রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে আমদানি করা পণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামে।
আইএলএনএর হিসাবে, ইরানে একটি শ্রমজীবী পরিবারের মাসিক ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ৯ কোটি তোমান। বিপরীতে সর্বনিম্ন মজুরির একজন শ্রমিক মাসে পান প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ তোমান।
শ্রম অধিকারকর্মী ফারামার্জ তৌফিঘির দাবি, ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক মাসের বড় একটি সময় প্রায় অর্থহীন অবস্থায় কাটাচ্ছেন। তার ভাষ্য, কেউ কেউ মাসে মাত্র আট দিনের প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর মতো আয় করতে পারছেন।
নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও আঞ্চলিক সংঘাতের আর্থিক চাপ একসঙ্গে কাজ করায় ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ছে। এতে খাদ্য, বাসস্থানসহ মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নিম্নআয়ের ও শ্রমজীবী মানুষ।