সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণার প্রচার যে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে হয়, সে ভূমিকা পালন করেছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। তিনি মনে করিয়ে দেন, মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে গৌরবময় অধ্যায় হয়ে চিরস্থায়ী হয়েছে। শহীদ, আহত এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগকে জাতির স্বাধীনতার ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশ এখন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার নতুন মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, এবং নির্বাচনটি যেন শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও সর্বাঙ্গসুন্দর হয়—সেই প্রত্যাশা সবার। সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যে কোনো জাতীয় সংকট, দুর্যোগ কিংবা পুনর্গঠনের মুহূর্তে সশস্ত্র বাহিনী জনগণের পাশে থেকেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং চলমান দেশ সংস্কার ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়াতেও বাহিনীর ভূমিকা ছিল আস্থাজাগানিয়া। তার মতে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অবদান অপরিসীম।
দেশের নিরাপত্তা কাঠামো আধুনিকায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তিন বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। অতীতের ফ্যাসিস্ট শাসনে যেখানে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন উপেক্ষিত হয়েছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেখানে নতুন গতিতে এগোচ্ছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ছাত্র ও তরুণসমাজকে প্রতিরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে বিএনসির কর্মকাণ্ড বাড়ানোর সিদ্ধান্তও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করতে গিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সম্মিলিত অভিযান ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। তিনি জানান, সেই সময় গঠিত ‘বাংলাদেশ ফোর্সেস’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক ও গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এই সংগঠিত প্রতিরোধই শেষ পর্যন্ত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় এনে দেয়—যা সশস্ত্র বাহিনীর অসীম ত্যাগ ও সাহসিকতার ফল।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। গত প্রায় চার দশকে ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশন সম্পন্ন করে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হয়েছে। নারী শান্তিরক্ষী পাঠানোর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান এখন শীর্ষ সারিতে। আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই অবদানের জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।