ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করেছে, যার মাধ্যমে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা IAEA-এর সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের দাবি, এই সংস্থা নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট সম্প্রতি এক সর্বসম্মত ভোটে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যার মাধ্যমে IAEA-এর সঙ্গে চলমান সব পর্যবেক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং কারিগরি সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন
আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংস্থা IAEA কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তারা অভিযোগ করে, সংস্থাটি নিরপেক্ষতা হারিয়ে পশ্চিমা প্রভাবের অধীন হয়ে পড়েছে এবং ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টি উপেক্ষা করেছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে IAEA-এর পরিদর্শকরা আর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় প্রবেশ করতে পারবে না। তাছাড়া, বিভিন্ন কেন্দ্রে স্থাপিত পর্যবেক্ষণ ক্যামেরাও সরিয়ে নেওয়া হবে। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে, তবে তাতে বিদেশি হস্তক্ষেপ থাকবে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে এবং পরমাণু সমঝোতার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, রাশিয়া ও চীন এখনো ইরানের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সরাসরি অবস্থান না জানালেও সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।