বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের একটি ভাড়া বাসা থেকে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
সম্প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর বিরুদ্ধে ‘প্রতীকী বিচার’ চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের নেতৃত্বে তিন সাবেক সিইসি এবং ২৪ জন নির্বাচন কমিশনের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তারা রাষ্ট্রদ্রোহ, ভোট ডাকাতি ও সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছেন।
সন্ধ্যার দিকে উত্তরার বাসিন্দারা অভিযোগের ভিত্তিতে কে এম নুরুল হুদার অবস্থান শনাক্ত করে বাসায় গিয়ে তাকে বাইরে বের করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তাকে ‘জুতার মালা’ পরিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, “স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। শেরেবাংলা নগর থানার একটি মামলার প্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবির কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”
পরে উত্তরা পশ্চিম থানার মাধ্যমে তাকে রাজধানীর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে মামলার তথ্য যাচাই এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা
এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে যেসব নির্লজ্জ ভোট ডাকাতি ঘটেছে, তার বিচার শুরু হলো আজ। অন্যদিকে সরকারপক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘আইনগত প্রক্রিয়া’ বলেই উল্লেখ করা হয়েছে।