প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজকের দিনটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। রাজনৈতিক দলগুলো যা অর্জন করেছে, তা পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত হবে, বিভিন্ন দেশে বিশ্লেষকরা এ নিয়ে আলোচনা করবে এবং বিশ্বজুড়ে এটি অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে থাকবে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস বলেন, “আজকের দিনটি আমরা পেয়েছি, এটি মহান। কল্পনা করলেই গা শিউরে ওঠে। এটি শুধু দেশের নয়, পুরো বিশ্বের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বহু জায়গায় পাঠ্যপুস্তকে থাকবে, ক্লাসরুমে আলোচনা হবে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ নিয়ে দেখবে—কি ঠিক, কি ভুল, তারা কী শিখতে পারে।”
তিনি আরও জানান, ঐকমত্য কমিশন গঠনের সময় আশা ছিল কিছু বিষয়ে দলগুলো একমত হবে। “প্রথমে মনে হয়েছিল কেউ কারো কথা শোনবে না। তাই ভয়ে কাজ শুরু হয়। প্রফেসর আলী রীয়াজকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। অবাক কাণ্ড হলো—সারাদেশ দেখলো, দলগুলো শুধু আলাপে বসেনি, গভীর জ্ঞানের সঙ্গে, সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেছে। না দেখলে বিশ্বাস হতো না।”
ড. ইউনূস বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও টেলিভিশনে আলোচনায় যুক্ত হয়েছে। “মানুষ শুধু শুনেনি, তারা ঘরের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেছে। কার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য, কোন নীতি মানা উচিত—সব বিষয় তারা বিশ্লেষণ করেছে। সারা জাতিকে আলোচনায় যুক্ত করা হয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, শুরুতে কোনো দলই সহজে রাজি হয়নি। “কিছু বিষয়ে একমত হওয়ার আশা সীমিত ছিল। কিন্তু ক্রমে ক্রমে সব জটিল বিষয় নিয়ে দলগুলো ঐক্যমতে পৌঁছেছে। আজ আমরা দীর্ঘ তালিকাভুক্ত বিষয় নিয়ে সনদ প্রণয়নে সক্ষম হয়েছি। দলগুলোর সদস্য এবং ঐক্যমত কমিশনের সহসভাপতি ও সদস্যদের জন্য সশ্রদ্ধ হাততালি—যারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। তাদের নাম ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে থাকবে, মানুষ ভাববে কীভাবে এটি করা হলো।”