জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, নির্বাচনকে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি ভোটার তালিকা সংস্কার, আইন সংশোধন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন—এবারের নির্বাচন জাতির গণতান্ত্রিক প্রত্যাশাকে পূরণ করবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ভাষণের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে আহত-নির্যাতিতদের প্রতি সমবেদনা জানান। তার ভাষায়, “স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এ জাতির আত্মত্যাগই আমাদের শক্তি। সেই শক্তিকে ধারণ করেই আমরা সামনে এগোবো।”
সিইসি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার প্রধান পথ নির্বাচন, আর সেই নির্বাচন অতীতে মানসম্মত না হওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা বারবার ব্যাহত হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সেই হতাশা দূর করার নতুন পথ খুলে দিয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই আমাদের অঙ্গীকার—যা জাতির প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং বিশ্বের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।”
স্বচ্ছ ও হালনাগাদ ভোটার তালিকা তৈরিতে বিগত এক বছরে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে সিইসি জানান, নতুন ভোটার যুক্ত করা, বাদ পড়া প্রায় ৪৫ লাখ ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে। নারী–পুরুষ ভোটারের ব্যবধান কমিয়ে আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইন সংশোধনের ফলে এবার ৩১ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত যোগ্য তরুণরাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন গত বছরজুড়ে আইন সংশোধন, আচরণবিধি হালনাগাদ, জবাবদিহতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন করেছে। এসব উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
সিইসি নাসির উদ্দীন আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দল ও জনগণের অংশগ্রহণে আসন্ন নির্বাচন একটি অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় উৎসবে পরিণত হবে।