মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি শুরু হয়। এটি প্রধান ফটক প্রদক্ষিণ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
এরপর পিএইচএ ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা বক্তব্য দেন। এতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গবি ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আলোচনা পর্বে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স, এর ব্যবহার, ঝুঁকি এবং জনস্বাস্থ্যে এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুদুল হক শিকদার। তিনি বলেন, ‘ওয়ান হেলথ ধারণায় মানুষের স্বাস্থ্যকে আলাদা করে দেখা হয় না। প্রাণী, পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্য একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। চিকিৎসা ব্যবস্থা শুধু ডাক্তার বা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি সমন্বিত কার্যক্রম যেখানে বিভিন্ন খাত একসঙ্গে কাজ করে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য “Together for Health, Stand with Science” অত্যন্ত সময়োপযোগী। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মতো প্রতিষ্ঠানে এমন আয়োজনে অংশ নিতে পারা গর্বের বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সূচনা মুক্তিযুদ্ধের সময়। পরবর্তীতে সরকারি জমি বরাদ্দের মাধ্যমে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে, যা তাঁর কাজের স্বীকৃতি। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবা শুধু শহরকেন্দ্রিক না হয়ে দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছানো উচিত।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ. এইচ. এম সফিকুজ্জামান বলেন, ওয়ান হেলথ ধারণার চ্যালেঞ্জগুলো ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এখন থেকেই সম্মিলিতভাবে কাজ করে সেই ঝুঁকি মোকাবেলা করা জরুরি। তিনি জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, ওয়ান হেলথ ধারণা নতুন নয়; বহু আগেই জাফরুল্লাহ চৌধুরী মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে একসূত্রে দেখার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেন, অযথা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই ফার্মেসি খাতে নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট ছাড়া পরিচালনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মেসবাহ্ উদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।