আজ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সামনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম অপেক্ষা করছে—সেটি হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম।
আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
জামায়াত আমির বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমেই দেশের মুক্তি সম্ভব হয়েছে। তাদের অবদান অবহেলা করা উচিত নয়। এই আন্দোলন না থাকলে আজ যারা নানান দাবি তুলছেন, তাদের অবস্থান কোথায় হতো—সেটিও ভাবনার বিষয়।
তিনি আরও বলেন, যদি আমরা আজকের চ্যালেঞ্জগুলো পাশ কাটিয়ে যাই, তবে তা ইঙ্গিত দেয়—আমাদের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা পুনর্জন্ম নিচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের মুখোমুখি না হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
"দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন আমরা দেখি, সেটিকে বাস্তবায়ন করতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে," তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব ইনশা আল্লাহ। দেশের প্রকৃত মুক্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টা থামবে না।”
তিনি আরও জানান, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে সরকার গঠনের পর কোনো এমপি বা মন্ত্রী করমুক্ত গাড়ি ব্যবহার করবেন না। আর কোনো জনপ্রতিনিধি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ লেনদেন করবেন না। বরং প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার জন্য বরাদ্দ করা অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হবে।
জামায়াতের আমির আরও প্রতিশ্রুতি দেন: “আমরা রাজনৈতিক চাঁদা গ্রহণ করব না, দুর্নীতি করব না এবং দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়ও দেব না। এমন স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”
সমাবেশে তিনি বলেন, “আমি আজ একজন দলনেতা হিসেবে নয়, শিশুদের বন্ধু, তরুণদের ভাই এবং প্রবীণদের সহযোদ্ধা হয়ে এসেছি। আন্দোলনের সকল সাহসী মানুষদের জানাতে চাই—আমরা আপনাদের পাশে আছি।”