জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ হলেও এখনও “জুলাই যোদ্ধার” তালিকায় ঠাঁই মেলেনি ভোলার দৌলতখান উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের সামাদার গ্রামের তরুণ হাসানের। জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহিদ হওয়া এই সাহসী যুবকের পরিবার আজও বঞ্চিত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহায়তা থেকে। শহিদ হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় সরকারি কোনো অনুদান বা সুযোগ-সুবিধাও জোটেনি তাদের কপালে। হতাশা আর অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে পরিবারটির।
গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে অনুষ্ঠিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন হাসান।অইদিন বিকাল থেকেই হাসানের কোন খোঁজ পাইনি তার পরিবার। দীর্ঘ সাত মাস পর, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে শনাক্ত করা হয় তার মরদেহ। গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর একমাত্র সন্তানের শোকে পাথর হয়ে যান হাসানের মা, যার কান্না থামেনি আজও।
ভোলা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ হওয়া ভোলার ৪৮ জনের নাম সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও রহস্যজনক কারণে হাসানের নাম সেখানে আসেনি। ফলে শহিদ হাসানের পরিবার সকল সরকারি অনুদান ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেছেন, একজন শহিদের পরিবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহায়তা না পাওয়া সরকারের অবহেলার বহিঃপ্রকাশ এবং একইসাথে দুঃখজনক ও অমানবিক। তারা বলেন, শহিদ হাসান দেশের মুক্তির জন্য জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন আন্দোলনের সময়। অবিলম্বে তার নাম সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে ভোলার সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসক বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুত শহিদ হাসানের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তার পরিবারকে সব ধরনের সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো ভুয়া তালিকা থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।