আগামী জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, নির্বাচন নয়, আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কার। জুলাইয়ের বীর জনতাকে স্মরণ করে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি রাজনৈতিক দ্বিচারিতা, ফ্যাসিবাদ ও গণচেতনার অপব্যবহার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০টি আসনেই প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মঞ্জুরি কমিশন ভবনের সামনে 'জুলাইয়ের বীর জনতার স্মরণে' আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
নুর বলেন, “নির্বাচনের নামে চলছে চাঁদাবাজি। আমরা নির্বাচনের জন্য তাড়া দিচ্ছি না। নির্বাচন সময়মতোই হবে, কিন্তু তার আগে চাই রাজনৈতিক সংস্কার। এখনই সময় নিজেদের চরিত্র দেখানোর। অনেকে ১৬ বছর ধরে কিছুই করেননি, এখন এসে আন্দোলনের মুখোশ পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যারা একসময় আপসহীনতার কথা বলতেন, তারাই এখন শেখ হাসিনার কাছে স্যারেন্ডার করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর অনেকে নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলেছেন—কারও পেটের বদল হয়েছে, কারও অফিসের বদল হয়েছে। অথচ যারা সত্যিকার অর্থে জনগণের স্বার্থ নিয়ে রাজনীতি করেন, তারা এখনও মাঠে।”
গণঅধিকার পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিলেও তাদের লক্ষ্য নির্বাচন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংস্কার। এ প্রসঙ্গে নুর বলেন, “যারা ক্ষমতায় আধিপত্য বজায় রাখতে চায়, তারা কোনো সংস্কারে রাজি নয়। এমনকি অনেক দলের মধ্যেই এখন ফ্যাসিবাদী চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাদেরও প্রতিহত করতে হবে।”
বর্তমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কয়েকদিন পরপর কয়েকজন লোক নিয়ে রাস্তা বন্ধ করে মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে। এসব রাজনীতি জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি ছাড়া কিছু নয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, “৫ আগস্টের আগেই সরকারকে ‘জুলাই সনদ’ দিতে হবে। যদি মানসিকতা, রাজনৈতিক চরিত্র ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হয়, তাহলে জুলাই চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”