জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল। তাদের মতে, নভেম্বরের মধ্যে গণভোট না হলে জাতীয় নির্বাচন নিয়েও নতুন রাজনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।
বুধবার রাজধানীতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করে নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় জাতীয় নির্বাচন নিয়েও অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে।” তিনি আরও বলেন, “গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) পরিবর্তনের অপচেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। এ ধরনের উদ্যোগ জনগণ প্রতিহত করবে।”
এই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। এসব দল যৌথভাবে জানিয়েছে, নভেম্বর মাসের মধ্যে গণভোট আয়োজনের দাবিতে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে এবং ৩ নভেম্বর বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে। এতে তিন ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে— সংবিধান-অসংক্রান্ত বিষয়গুলো সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যকর করতে পারবে; সংবিধান-সংশ্লিষ্ট ৪৮টি বিষয় এবং জুলাই সনদ সংক্রান্ত প্রস্তাব কার্যকর করতে সরকার আদেশ জারি করবে; আর জনগণের ম্যান্ডেট পেতে গণভোট আয়োজন বাধ্যতামূলক হবে।
বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, গণভোট ছাড়া জুলাই সনদ আইনগতভাবে টেকসই ভিত্তি পাবে না। তাই নভেম্বরের মধ্যেই এটি অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। আট দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কালো টাকার প্রভাব, ভোটকেন্দ্র দখল, পেশিশক্তির ব্যবহার ও ভোট জালিয়াতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটের সঠিক মূল্যায়ন ও গুণগত পার্লামেন্ট গঠনের লক্ষ্যে ‘পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন’ চালুরও দাবি জানানো হয়।