কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান জানান, তদন্তে মোট পাঁচজন কর্মকর্তার নাম পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে বর্তমান আইজি বাহারুল আলমও রয়েছেন, যিনি ঘটনার সময় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান ছিলেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণেই তাদের নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের প্রতি প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো প্রকাশ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, তদন্ত কমিশন তাদের কাজ করেছে, এখন সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ নিয়ে তার মন্তব্য করার কিছু নেই।
প্রতিবেদনে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—তৎকালীন আইজিপি নূর মোহাম্মদ, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার নাঈম আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত আইজি (এসবি) মনিরুল ইসলাম এবং বিডিআর হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল কাহার আকন্দ। উল্লেখ্য, নূর মোহাম্মদের জামাতা ক্যাপ্টেন মাজহারও সেই ঘটনায় নিহত হন।
ঘটনার পর গঠিত আরেকটি তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, প্রতিবেদনের পরিমাণ অনেক বেশি, পুরোটা পড়ার পর সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কমিশন প্রধান জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটিকে গোপনীয় হিসেবে জমা দেওয়া হয়নি—সরকার চাইলে প্রকাশ করতে পারে। তবে সরকার তা প্রকাশ করবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি।
২০০৯ সালের ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ পিলখানা হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুনঃতদন্তের দাবি ওঠে, যার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর নতুন স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। রবিবার কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে জমা দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি সুপরিকল্পিত ছিল এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততার ‘শক্তিশালী প্রমাণ’ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ভারতীয় যোগসাজশের তথ্য-প্রমাণও সামনে এসেছে। কমিশনের দাবি, পরিকল্পনার সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
ঘটনার সময় পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান ছিলেন বাহারুল আলম। পরবর্তীতে তাকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর ২০২০ সালে অবসরে যান। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে চুক্তিভিত্তিক আইজিপি হিসেবে তাকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়।