সোমবার (২৮ জুলাই) ফেসবুকে বনি আমিন নামের এক অনলাইন এক্টিভিস্ট দাবি করেন, মাহবুব আলমের অস্ট্রেলিয়ান ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সাড়ে ছয় কোটি টাকার একটি লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ান আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (AUSTRAC)। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে মাহফুজ আলম তার ভাইয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন এবং এই অর্থ কমিশন ভিত্তিক লবিং ও ফাইলিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে।
অভিযোগের জবাবে মাহবুব আলম মাহি মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি লেখেন, “গত ছয় মাসের ব্যাংক বিবরণী প্রকাশ করেছি। আমার অ্যাকাউন্ট এখনো সচল এবং কোনো অস্বচ্ছতা নেই। বনি আমিনের প্রচারিত তথ্য বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” মাহি জানান, তিনি অস্ট্রেলিয়ায় মাস্টার্স শেষ করেছেন এবং তার ব্যাংক হিসাব ২০২৩ সাল থেকেই খোলা আছে। তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবসার বাইরে অন্য কোনো আর্থিক লেনদেনে যুক্ত থাকার প্রশ্নই ওঠে না বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমার ভাই মাহফুজ আলমের পক্ষ থেকে কখনও কোনো তদবির করিনি এবং মাহফুজও কাউকে এ ধরনের কাজ করতে দেননি। আমাদের পরিবারের ব্যবসার ইতিহাস দীর্ঘ ৩০ বছরের, যা পুরোপুরি আইনানুগ ও স্বচ্ছ।”
অভিযোগকারী বনি আমিনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে মাহবুব বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি ক্ষমা না চাইলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি।”
অন্যদিকে, মাহফুজ আলম তার ভাইয়ের দেওয়া পোস্ট শেয়ার করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “আমার ভাইকে একবার বিটিভির একটি টেন্ডারের কাজ করে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। আমি তাৎক্ষণিকভাবে নিষেধ করি, কারণ রাষ্ট্রের আমানতের খেয়ানত করা যাবে না। সেই টেন্ডার শেষ পর্যন্ত বাতিলও হয়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “গত এক বছরে আমার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ এসেছে, তার একটিতেও আর্থিক দুর্নীতি বা তদবির বাণিজ্যের কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। কিছু মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে এসব গুজব ছড়াচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব আমার কাছে টাকার চেয়ে বড়।”
শেষে মাহফুজ আলম বলেন, “রাজনীতির আড়ালে সুবিধাবাদী গোষ্ঠীগুলো গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”