ইতালির রোমে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা সভায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,“আমরা যখন দেশের দায়িত্ব নিই, তখন অবস্থা ছিল একেবারে বিপর্যস্ত। সরকারি কর্মচারীদের বেতন দেয়ার মতো অর্থ ছিল না, আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও ছিল না। কোথা থেকে শুরু করবো, বুঝতে পারছিলাম না। সেই সময় প্রবাসী ভাই-বোনদের পাঠানো রেমিট্যান্সই আমাদের টিকে থাকার আশার আলো দেখিয়েছে।”
তিনি প্রবাসীদের প্রশংসা করে বলেন,
“আপনাদের পাঠানো টাকাই দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। আপনাদের অবদান ছাড়া সরকার টিকে থাকতে পারতো না। এখন সময় এসেছে, দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”
ইতালি কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,“ইতালি জানিয়েছে, কিছু বাংলাদেশি এখানে বিশৃঙ্খল আচরণ করছে। আমাদের বুঝতে হবে, আমরা বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করি। সেখানেও শৃঙ্খলা ও সম্মানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
এর আগে, ড. ইউনূস রোমে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)–এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান কার্ল স্কাউয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ও স্কুলভিত্তিক খাদ্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। কার্ল স্কাউ জানান, বাংলাদেশে আশ্রিত ১৩ লাখ রোহিঙ্গার জন্য খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে ডব্লিউএফপি।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর মহাপরিচালক ড. কু ডংইউর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ড. ইউনূস তিনটি নতুন খাতে সহায়তা চান। আলোচনায় গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ ও মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফল রপ্তানির জন্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্বল্পমূল্যের বহনযোগ্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনা নিয়ে আলাপ হয়।
এফএও মহাপরিচালক বাংলাদেশকে “উচ্চ কর্মদক্ষ দেশ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন,“বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও কারিগরি দক্ষতায় এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”