গোপালগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার প্রকৃত প্রেক্ষাপট আড়াল করতে আওয়ামী লীগপন্থি একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও ভুয়া ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্ট চেক ইউনিট তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ তোলে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হন এবং আগুন দেওয়া হয় পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতে। এসব ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করতে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পেজ সুপরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালায়।
প্রচারণার অংশ হিসেবে তারা একাধিক পুরোনো ও ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কহীন ছবি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
আহত কিশোরের ছবি: রাস্তায় আগুন জ্বলছে ও উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ করছে এমন একটি ছবি, যা ২০২৪ সালের ১০ আগস্টের পুরোনো ঘটনা থেকে নেওয়া হয়েছে।
ডিবি পুলিশের গুলিচালনার ছবি: ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সমাবেশে ধারণ করা একটি দৃশ্যকে গোপালগঞ্জের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার দৃশ্য: ২০২৩ সালের ২০ মার্চের একটি ভিন্ন ঘটনার ছবি।
শিশুর হাতে লাঠির ছবি: গোপালগঞ্জের দাবি করা হলেও এটি ২০২৩ সালের আগস্টে গাজীপুরের সফিপুর এলাকার ভিডিও থেকে নেওয়া একটি স্ক্রিনশট।
এসব ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এস এম জাকির হোসেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগপন্থি ব্যক্তি। তারা এসব ছবিকে গোপালগঞ্জের সহিংসতার দৃশ্য হিসেবে প্রচার করে বিরোধীদলের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন বলে প্রেস উইংয়ের দাবি।
প্রেস উইং আরও বলেছে, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এমন প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, যা ঘোরতর দায়িত্বহীনতা ও রাজনৈতিক অপপ্রচারের বহিঃপ্রকাশ। ফ্যাক্ট চেক ইউনিট সাধারণ মানুষকে এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।