অনুসন্ধানী সাংবাদিক নাজমুস সাকিব তার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন; স্মার্টফোন মাফিয়া রেজওয়ানুল হকের পরিকল্পনায়, ও নেদারল্যান্ডের নাগরিক বাটপার ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবের যোগসাজশে; এনইআইআর-এর নামে স্মার্টফোন বাজার দেশের কর্পোরেট মাফিয়া চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে!
ছবিতে লাল বৃত্তে চিহ্নিত ব্যক্তি রেজওয়ানুল হক। সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের মাধ্যমে, বাংলাদেশের স্মার্টফোন মার্কেটকে ম্যানিপুলেট করেছিলেন এই ব্যক্তি। সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ও মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে, মোবাইল ফোন সংযোজনকারী কারখানার অনুমতি পান তিনি। নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে ২৪ মে ২০২৩ এই কারখানা উদ্বোধন করা হয়।
আইটেল, টেকনো, ইনফিনিক্সের মতো চীনা হ্যান্ডসেট উৎপাদনের কথা থাকলেও মূলত হ্যান্ডসেট এসেম্বল বা সংযোজন করতো তারা। ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েও কিছুই আনতে পারেননি রেজওয়ানুল।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের পরও রেজওয়ানুলের কূটচাল থেমে যায়নি। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশে ‘ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার’ (এনইআইআর) চালু হতে যাচ্ছে। নেদারল্যান্ডের নাগরিক ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব স্মার্টফোন বাজারের কিছু মাফিয়া চক্রের সঙ্গে সমঝোতা করে এই ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছেন।
স্মার্টফোন ব্যবহার করতে বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। মূল কারিগর পুঁজিবাদী কর্পোরেট মাফিয়া চক্র, যারা দেশের স্মার্টফোন বাজারে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ চাইছে। নেতৃত্বে আছেন রেজওয়ানুল হক।
জানা গিয়েছে, টেকনোর রেজওয়ানুল হকের নেতৃত্বে ৯টি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে এনইআইআর-এর টেন্ডার পাওয়ার জন্য সিনেসিস আইটির মাধ্যমে ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবকে ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা দিয়েছেন। ৯টির মধ্যে মাত্র ১টি বাংলাদেশি ব্র্যান্ড, বাকি ৮টি চীনা ব্র্যান্ড। ক্ষমতায় বসে ফয়েজ তৈয়্যব চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। হুয়াওয়ে ও চায়না কো-অপারেশন ফোরামের মাধ্যমে চীন সফরও করেন।
আগামী বিজয় দিবসে দেশের মানুষের স্মার্টফোন ব্যবহারের স্বাধীনতা বিদেশিদের কাছে বিক্রি করেছেন ফয়েজ তৈয়্যব। যথাযথ সংশোধন ছাড়া, প্রস্তাবিত এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষকে দামি লো-ফিচার স্মার্টফোন কিনতে বাধ্য হতে হবে, আর প্রায় ১২ লাখ মানুষের রুজি রুটির যোগানদাতা বিক্রেতারা পথে বসবেন।
রেজওয়ানুল গং-এর পক্ষে ফয়েজ তৈয়্যব কাজ করছেন একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে। ফলে দেশের মানুষের অর্থের ক্ষতি হবে, আর ফয়েজ ও রেজওয়ানুলদের পকেট ভারী হবে।