তিনি বলেন, “সোমবার রাতে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আইসিইউতে রয়েছেন ৫ জন। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭৮ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।”
আহতদের চিকিৎসায় ব্যাপক পরিমাণে রক্তের প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে রক্তদাতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ডা. সায়েদুর। তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে ৬ জনের মরদেহ এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ২৭ জন নিহতের মধ্যে ২৫ জনই শিশু।
এর আগে, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জুনিয়র শাখার একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজিআই মডেলের একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। আঘাতের পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।
দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে নার্সারি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটিতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। বিকট শব্দে বিমানটি আছড়ে পড়লে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আশপাশের মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মুহূর্তেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
উদ্ধার কার্যক্রমে দ্রুতই যুক্ত হয় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীর সদস্যরা। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বিমানটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করেছিল এবং মাত্র ১৩ মিনিট পরই বিধ্বস্ত হয়।
ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সরকার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসহ সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
এছাড়া, নিহত ও আহতদের স্মরণে দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।