শিক্ষার্থীরা জানান, বিগত কয়েক বছরে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও প্রতিযোগিতার কারণে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে তারা আর কোনো বিভাজন চান না। এখন থেকে পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে একসাথে এগিয়ে যাবেন তারা।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ইস্রাফিল মহিমা বলেন, আমরা আর কোনো বিভাজন চাই না। অতীতে রাজপথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছি, ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থাকব। আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী তৌফিক বলেন, আমরা সবাই ভাই। আমাদের প্রতিযোগিতা হবে মেধায়, সাফল্যে, মারামারিতে নয়। শান্তির এই বন্ধন যেন আগামীতেও অটুট থাকে, সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করব।
নিউমার্কেট থানার ওসি কেএম মাহফুজুল হক বলেন, ছোট একটি ভুল বোঝাবুঝিই অনেক সময় বড় সংঘাতের কারণ হয়। কিন্তু আজকের সংলাপে দেখা গেছে, প্রকৃতপক্ষে কোনো বিরোধ নেই—সবাই মিলেমিশে থাকতে চায়। তিনি বলেন, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়েছে, আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা মিষ্টি এনেছে—এটাই প্রকৃত বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির প্রতীক।
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ.কে.এম. ইলিয়াস বলেন, দুই কলেজের ঐতিহ্য রক্ষায় শিক্ষাবিনিময়, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব আরও গভীর করতে হবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সমাধান হবে আলোচনায়, সংঘাতে নয়। আইডিয়াল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার ভুল ব্যাখ্যা ও উস্কানি আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছিল। এখন আমরা খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও শিক্ষায় প্রতিযোগিতা করব। তিনি আরও বলেন, সম্ভব হলে চলমান মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া গেলে দুই প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিটি কলেজ এবার উপস্থিত না থাকলেও শিগগিরই তিন কলেজ মিলে বৃহত্তর মিলনমেলার আয়োজন করা হবে। ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের এই শান্তি চুক্তি তরুণ সমাজে সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।