আজ (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট এবং ৬টা ৫২ মিনিটে দেওয়া পৃথক দুটি ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
প্রথম পোস্টে তিনি লেখেন, “১/১১-এর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।”
এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি পোস্টে মাহফুজ আলম ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “জুলাই মাস গণআন্দোলনের মাস, যেখানে দলীয় বা মতাদর্শগত ভেদাভেদ ভুলে সবার অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, শিবির তাদের ‘জনশক্তি’ ও সমন্বয়ের (কো-অর্ডিনেশন) মাধ্যমে অভ্যুত্থানকে এগিয়ে নিয়েছে। ছাত্রদল ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ফ্যাসিস্ট বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ছাত্র অধিকার পরিষদ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন সংগঠিত করেছে এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ, ছাত্র ফেডারেশন ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলো মাঠে সক্রিয় ছিল এবং সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠনগুলো জনগণকে সাহস জুগিয়েছে। মাহফুজ আলম আলেম ও মাদ্রাসা ছাত্রদের ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, তারা দীর্ঘসময় রাজপথে প্রতিরোধে ছিলেন।
তিনি শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, প্রাইভেট শিক্ষার্থী, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির অবদানকেও স্মরণ করেন। নারীদের সাহসিকতা ও আহতদের সহায়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, মায়েরা, বোনেরা কারফিউর দিনগুলোতে সাহস জুগিয়েছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই প্রতিরোধের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অভ্যুত্থানে নীরব কিন্তু কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে জানান মাহফুজ আলম। এমনকি ছাত্রলীগের একটি অংশ বিদ্রোহ করে অভ্যুত্থানে যুক্ত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণি, পেশাজীবী সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী ও মিডিয়া কর্মীরাও আন্দোলনে যুক্ত হয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। প্রবাসী শ্রমিক, চাকরিজীবী এবং প্রফেশনালরা বাংলাদেশের লড়াইকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে কাজ করেছেন। কবি, সাহিত্যিক, পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল, সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার এবং র্যাপাররাও জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শেষে তিনি প্রশ্ন রাখেন—“জনগণের এই সংগ্রামে কে কার অবদান অস্বীকার করবেন?”