সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পিকেএসএফ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। প্রায় ১৮ কোটি মানুষ সরাসরি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় বাস্তবতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটগুলো আন্তর্জাতিক মহলে প্রায়শই অবহেলিত থাকে। বিদেশি গণমাধ্যম মাঝে মাঝে প্রতিবেদন তৈরি করলেও, দেশীয় সাংবাদিকদের গভীর অনুসন্ধানী কাজগুলো বৈশ্বিক আলোচনায় তেমন জায়গা পায় না।
প্রেস সচিব সিলেটের পানির সংকট, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা এবং ভবদহের জলাবদ্ধতার মতো উদাহরণ টেনে বলেন, এগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব হলেও, এগুলোর ওপর কেবল মৌসুমি প্রতিবেদন তৈরি হয়। তিনি বলেন, "ভবদহে মৌসুমজুড়ে লাখো মানুষ পানিবন্দি থাকে, অথচ মৌসুম শেষ হলে এই বিষয়টি সংবাদ থেকে হারিয়ে যায়। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বড় উদাহরণ, যা আমাদের কাভারেজের বাইরে থেকে যাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি দেশের স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করছে। ডেঙ্গুর বিস্তার, মাতৃস্বাস্থ্যের সংকট এবং উর্বরতার হারের মতো বিষয়গুলোও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
শফিকুল আলম জোর দিয়ে বলেন, আমাদের সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের ছাপ রয়েছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা—সবকিছুর পেছনেই জলবায়ুর প্রভাব বিদ্যমান। কিন্তু এসব বিষয় আন্তর্জাতিক মহলে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয় না, যার ফলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক তহবিল ও প্রয়োজনীয় সমর্থন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু সাংবাদিকতা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিল ম্যাককিবেন ও এলিজাবেথ কোলবার্টের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাংবাদিকদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকদেরও গভীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করে দেশের গল্পগুলো বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরতে হবে।