গত বছর জুলাইয়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন পর চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান। সেই সফরে তার জন্য বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছিলেন কাতারের আমির, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের উষ্ণতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইভাবে, চলতি বছরের এপ্রিলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাতার সফর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সফরে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশে কাতারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে দোহা।
ড. ইউনূস সফরের সময় কাতারি বিনিয়োগকারীদের জন্য পৃথক রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের প্রস্তাব দেন, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত হযরত আলী খান বলেন, “দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ। প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক কাতার সফর ও কাতারের আমিরের গত বছরের বাংলাদেশ সফরই প্রমাণ করে যে, এই সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হচ্ছে।”
গত পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ক মূলত শ্রমবাজারনির্ভর। বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাতারে কর্মরত, যারা দেশের রেমিট্যান্স খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাছাড়া এলএনজি, সারসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানির মাধ্যমেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তবে এবার সেই সহযোগিতার পরিধি অর্থনীতি ছাড়িয়ে কৌশলগত ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রসারিত হচ্ছে।
মধ্যস্থতা কূটনীতিতে কাতার বরাবরই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশটির অবস্থান ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান তার বড় প্রমাণ। সম্প্রতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আগ্রহ প্রকাশ করে কাতার জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তারা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
রাষ্ট্রদূত হযরত আলী খান আরও জানান, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের বাইরেও বাংলাদেশ ও কাতারের ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে। গণতন্ত্র সুসংহত করার প্রয়োজনে বাংলাদেশ যদি কোনো সহযোগিতা চায়, কাতার সে বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শ্রমবাজার ও জ্বালানি নির্ভর অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতায় কাতারের সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী এই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হলে বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।