রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ফের সরব হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মস্কোয় সফররত তার বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আলোচনার অগ্রগতির বিষয়ে তিনি ইউরোপীয় মিত্রদেরও অবহিত করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “আমরা যুদ্ধ বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছি।”
ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনেও তিনি একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে কবে, কোথায়, কীভাবে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
এদিকে, পুতিন-উইটকফ বৈঠক সম্পর্কিত একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করেছে ক্রেমলিন। সেখানে বলা হয়, “মস্কো ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।” তবে আলোচনা কী বিষয়ে হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এসেছে এমন এক সময়ে, যখন তার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে মস্কোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা আবার শুরু হওয়া কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নিজস্ব উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এর আগে একাধিকবার স্টিভ উইটকফকে মস্কোয় পাঠানো হলেও সেগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। এ নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে হতাশাও প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে শুধু রাশিয়ার ওপর নয়, যারা রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনছে, তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এমন অবস্থায় পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক আদৌ শান্তি ফেরাতে পারে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।