শনিবার সকালে রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এসব কথা বলেন।
নির্বাচনে কোন বিষয়গুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে তার দাবি, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে এবং নির্বাচনের দিন যত কাছে আসবে, পরিস্থিতি ততই ভালো হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে যেখানে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে।
নাসির উদ্দিন আরও জানান, পোলিং ও প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে শুধু শিক্ষকদের নিয়োগ না দিয়ে বিকল্প ভাবনাও গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এখন তো আর মানুষ বিদেশ থেকে আমদানি করে নির্বাচন করাতে পারবে না। দেশের মানুষ দিয়েই তো করতে হবে। তাদেরকে উপযুক্তভাবে নিয়োজিত করতে হবে। আগেও তো এই দেশে সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। মানুষ যদি দেখতে পায় এখানে কোনো ধান্দাবাজি নেই, যদি বুঝতে পারে নির্বাচন সৎ ও সত্যিকার অর্থেই সুন্দর হবে, তাহলে তারা আমাদের পাশে থাকবে।”
সিইসি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারকে বর্তমান সময়ের বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “এআই এখন অস্ত্রের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। মানুষের ছবি দিয়ে ভুয়া বক্তব্য তৈরি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেনা। যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে, সে নিজেও জানে না; যে বলছে, সে-ও আসল নয়। যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব তথ্য কয়েক হাজারবার শেয়ার হয়, যার ফলে ব্যক্তি ও গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনকে নিজের ঈমানি দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করে নাসির উদ্দিন বলেন, “আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমার সিদ্ধান্ত কারো পক্ষে বা বিপক্ষে যেতে পারে, কিন্তু তা অবশ্যই আইন অনুযায়ী হবে। যতদিন দায়িত্বে থাকব, নিরপেক্ষভাবে কাজ করব।”
সকালের সভায় রংপুর অঞ্চলের সব জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন সিইসি। বিকেলে বিভাগীয় কমিশনার সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরেক দফা বৈঠকে অংশ নেন তিনি।