সূত্র জানায়, পরিকল্পনার মূল সমন্বয় করছেন ভারতে পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, যাকে সহযোগিতা দিচ্ছেন এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মুজিবুর রহমান। তাদের সহায়তায় দিল্লি ও কলকাতায় বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অফিস ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
ঢাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরির কাজে পলাতক সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদার, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচিত কর্মীদের রাজধানীতে এনে সংঘর্ষ ও যোগাযোগ কৌশলের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মেজর সাদিকুল হক সাদেককে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করেছে।
নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নাশকতায় অবৈধ ও লাইসেন্সকৃত অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্প্রতি সেনাবাহিনী ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় একটি অস্ত্রের চালান আটক করেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরও কয়েকটি চালান দেশে প্রবেশের চেষ্টা হতে পারে।
১৩ নভেম্বরকে ঘিরে মহাসড়ক ও রাজধানী অবরোধের ছক তৈরি হয়েছে। গাজীপুর থেকে উত্তরা পর্যন্ত দায়িত্বে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর, কাঁচপুর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত লিয়াকত শিকদার, আর ঢাকায় অগ্নিসংযোগ পরিকল্পনার দায়িত্বে রয়েছেন সম্রাট। ১২ নভেম্বর রাতে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ঝটিকা মিছিল ও পরিবহনে আগুন দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আদালতপাড়া ও সরকারি স্থাপনাগুলোকে বিশেষ টার্গেটে রাখা হয়েছে।
বিশৃঙ্খলার কেন্দ্র হিসেবে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। হাসিনার রায় ঘোষণার পর এই এলাকায় বড় শোডাউন করে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার লক্ষ্য রয়েছে। বিদেশি ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোর প্রস্তুতিও চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনা, র্যাব ও গোয়েন্দা ইউনিটগুলোকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। রায় ঘোষণার আগের ও পরবর্তী তিন দিনকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সময়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে সেনা ও বিজিবির যৌথ টহল বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম বলেন, “দেশের ভেতর বা বাইরে থেকে যেকোনো নাশকতার অপচেষ্টা হতে পারে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তা প্রতিহত করতে হবে।”
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানান, “গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। নাশকতা বা সংঘর্ষের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সূত্র: আমার দেশ