ভারতের সঙ্গে একাধিক চুক্তি বাতিলের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে শুধু একটি চুক্তি বাতিল করেছে, বাকি কয়েকটি এখনো পর্যালোচনাধীন।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তার অনেকগুলো প্রকল্প এখনো অনুমোদনও পায়নি। এসব অসম্পূর্ণ তথ্য প্রচার করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।”
বাতিল হওয়া চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, “ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি জিআরএসই (GRSE)-এর সঙ্গে টাগবোট সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তিটি আমরা বাতিল করেছি। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য তেমন কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা আনবে না।”
তিনি আরও জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে তিন বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো চিঠির কোনো জবাব এখনো দেয়নি দিল্লি।
এ ছাড়া, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা নির্বিচার গ্রেফতার বন্ধ ও আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “সব দাবি পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়, তবে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি তথ্যে দাবি করা হয় যে, অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে ১০টি চুক্তি বাতিল করেছে। এমনকি সরকারের কিছু প্রতিনিধিকেও ওই তথ্য প্রচার করতে দেখা যায়।
কিন্তু পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে— সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেবল একটিমাত্র চুক্তিই বাতিল করা হয়েছে, আর বাকি চুক্তিগুলো পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।