আজ রোববার রাজধানীতে তিনটি পৃথক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে ছাত্রদল আয়োজন করছে ‘ছাত্র সমাবেশ’। একই সময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ’-এর দাবিতে সমাবেশ করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর ‘জুলাই জাগরণ’ অনুষ্ঠান।
এই কর্মসূচিগুলোকে ঘিরে জনসমাগম, যানজট ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ডিএমপি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সীমিত করেছে। কিছু স্থানে রুট ডাইভারশন এবং গণপরিবহন চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
ছাত্রদলের অবস্থান ও বক্তব্য:
ছাত্রদল শুরুতে শহীদ মিনারে সমাবেশের অনুমতি পেলেও পরে এনসিপির অনুরোধে গণতান্ত্রিক উদারতা দেখিয়ে তারা স্থান পরিবর্তন করে শাহবাগে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “ব্যস্ত নগরীতে কর্মদিবসে জনদুর্ভোগের বিষয়টি আমরা বুঝি, তবে বৃহৎ ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”
তারা নগরবাসীর কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নাগরিক পার্টির ঘোষণা:
জাতীয় নাগরিক পার্টি জানিয়েছে, আজকের সমাবেশ থেকে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করা হবে। দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, “ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দেখা হচ্ছে আপনাদের সাথে।”
ডিএমপির ডাইভারশন ও নির্দেশনা:
ডিএমপি জানিয়েছে, জনসমাগমের কারণে শাহবাগ, শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যানচলাচলে সমস্যা হতে পারে। তাই নিচের রুটগুলো ব্যবহার না করার অনুরোধ করা হয়েছে:
ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়: উত্তর দিক থেকে আসা যানবাহন হেয়ার রোড/মিন্টু রোড ঘুরে চলবে।
কাটাবন মোড়: যানবাহন নীলক্ষেত/হাতিরপুল রোড ব্যবহার করবে।
মৎস্য ভবন মোড়: যানবাহন মগবাজার রোড দিয়ে ঘুরে যাবে।
টিএসসি/রাজু ভাস্কর্য: দোয়েল চত্বর/নীলক্ষেত হয়ে চলাচলের পরামর্শ।
শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশ পথ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষ সতর্কবার্তা:
এইচএসসি ও বিসিএস পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে বের হয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার অনুরোধ করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ধারণ ও পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সমাবেশস্থলগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।