দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রকাশ্য হামলার ঘটনার পর ঝুঁকিতে থাকা ২০ জন ব্যক্তি এখন সরকারি নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে একজন করে গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত মূল্যায়নে যাদের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি রয়েছে, শুধু তাদের ক্ষেত্রেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, তাসনিম জারা, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর ও রাশেদ খানসহ কয়েকজন রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীর ওপর প্রকাশ্য হামলা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় আনে। ওই ঘটনার পর অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক নেতা, প্রার্থী ও আন্দোলনের নেতাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেয়।
এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান, বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জুনায়েদ সাকী ও এলডিপি সভাপতি অলি আহমদসহ একাধিক নেতা সরকারের কাছে গানম্যান চেয়ে আবেদন করেন।
তবে নিরাপত্তা পাওয়ার পরও অনেকে এটিকে পূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখছেন না। এক বেসরকারি টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে সারজিস আলম বলেন, দেওয়া নিরাপত্তা কোনো প্রটোকলভিত্তিক নয় এবং একজন সিভিল পোশাকের গানম্যান দিয়ে ঝুঁকি পুরোপুরি কমানো সম্ভব নয়। তার মতে, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা এবং জামিন বন্ধ করাই নিরাপত্তার মূল শর্ত।
একইভাবে রাশেদ খান বলেন, ঝুঁকির বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য থাকলেও বাস্তবে এই নিরাপত্তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ডিজিএফআই, এনএসআই ও ডিবির তৈরি করা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকা অনুযায়ী এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ গানম্যান নিতে আগ্রহী নন বলেও জানান তিনি।
এছাড়া প্রয়োজনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়েও সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।