যমুনা ও ধরলা নদীর বালুতে বিরল মৃত্তিকা ধাতুর উপস্থিতি পেয়েছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)। ২০২৫ সালের পরীক্ষায় স্যামারিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, টারবিয়াম, ডিসপ্রোসিয়ামসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের অস্তিত্ব বেশি পাওয়া যায়।
গবেষকদের ধারণা, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও ময়মনসিংহের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে আসা পলিমাটি এসব উপাদান নদীতে বহন করে আনতে পারে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে দেশের অন্যান্য নদীতেও এ ধরনের খনিজ থাকতে পারে। তবে এগুলোর পরিমাণ, উত্তোলনযোগ্যতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এখনো নিশ্চিত নয় এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন।
বিরল মৃত্তিকা ধাতু আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, লেজার, রাডার, সোলার প্যানেল, উইন্ড টারবাইন, জেট ইঞ্জিন, এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতেও এগুলোর ব্যবহার রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে এগুলোর সরবরাহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে বৈশ্বিক সরবরাহে চীনের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। চীন–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে এই খনিজ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে, যা প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশে এখনো বিরল মৃত্তিকা উত্তোলন বা বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাইয়ে কোনো বড় সরকারি উদ্যোগ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিয়োগ হলে এটি ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদন: বিজ্ঞানপ্রিয়