নুর বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার অজুহাত খুঁজছে। অথচ জনগণ পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে। “ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ অপ্রয়োজনীয়,”—তিনি বলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ড. ইউনূস কিছু রাজনৈতিক দলকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন, অথচ গণঅধিকার পরিষদকে ‘বি’ ও ‘সি’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে—যা সম্পূর্ণ অবিচার।” তার দাবি, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞ দল হওয়ায় তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা যেতে পারে, কিন্তু জামায়াত ও এনসিপিকে একই পর্যায়ে তুলে ধরা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বেরই উদাহরণ।
নুর আরও বলেন, “যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছে, তাদেরকে নিচু ক্যাটাগরিতে ফেলে রাখা এবং ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের উচ্চ মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে—এটা প্রতারণা।”
বিচার বিভাগের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। “একজন বিচারপতির আদালত থেকে কয়েক ঘণ্টায় শত শত জামিন দেওয়া হয়েছে—এ ধরনের ঘটনাই জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করছে,”—বলেন নুর। তিনি আরও যোগ করেন, “বিচার বিভাগ নিয়ে অন্ধ সমর্থন নয়, যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।”
গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধরে যারা ক্ষমতার দালালি করেছে কিংবা ব্যবসায়ী শ্রেণির নামে লুটপাটে যুক্ত ছিল, তাদেরও বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান নুর। “শুধু রাজপথে সংঘর্ষে অংশ নেওয়াদের বিচারে দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না,”—তিনি উল্লেখ করেন।
ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করে নুর বলেন, “এই সরকার ছাত্রসমাজে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, প্রতারণা করেছে। আমরা বিশ্বাস নিয়ে পাশে ছিলাম, কিন্তু তারা সে বিশ্বাসের মর্যাদা দেয়নি। ছাত্ররা রক্ত দিয়ে পরিবর্তন এনেছে, অথচ তাদের অবদান উপেক্ষিত।”
সরকারের দমননীতির প্রসঙ্গে নুর বলেন, “আমরা হাসিনার আমলেও এতটা নির্যাতনের শিকার হইনি, যতটা এখন হচ্ছি। এই অন্যায়েরও বিচার হতে হবে।”
সবশেষে তিনি আহ্বান জানান, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে আলোচনার মাধ্যমে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীতে যারা ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।”