নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পৃথক বার্তায়। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বাংলা নববর্ষকে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গর্ব হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্য জোরদারে এর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গভীর শিকড়ের প্রতিচ্ছবি। তিনি গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক জীবনের সঙ্গে এই উৎসবের সম্পর্ক তুলে ধরে আধুনিক যুগেও লোকজ ঐতিহ্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজধানী ঢাকায় বর্ষবরণের অন্যতম আকর্ষণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা। এ বছরের শোভাযাত্রায় শান্তি, সৃজনশীলতা, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়ার বিশাল মোটিফ স্থান পেয়েছে। রঙিন সাজসজ্জা আর বাদ্যযন্ত্রের তালে এই শোভাযাত্রা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়গান শোনায়।
রমনার বটমূলে ছায়ানটের পরিবেশনায় সম্মিলিত কণ্ঠে গান গেয়ে নতুন বছরকে বরণ করা হচ্ছে, যেখানে শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতির বার্তা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। একইভাবে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীও রাজধানীতে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবকে আরও বর্ণিল করে তুলেছে।
শুধু শহরেই নয়, গ্রামবাংলার প্রতিটি কোণেও বইছে বৈশাখী আনন্দধারা। বিভিন্ন এলাকায় বৈশাখী মেলা, লাঠিখেলা, বলিখেলা ও হা-ডু-ডু’র মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে শতবর্ষী জব্বারের বলিখেলাও যথাযথ মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে বর্ষবরণ উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। লোকজ সংস্কৃতি ও হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পুতুলনাট্য ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবকে ঘিরে সারা দেশে, বিশেষ করে ঢাকায়, নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্ক অবস্থানে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও নিজেদের মতো করে নববর্ষ উদযাপনে আয়োজন করেছে বিশেষ অনুষ্ঠান। নতুন বছরের এই সূচনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—বাঙালির শক্তি তার ঐক্যে, আর সেই ঐক্যের বন্ধনেই গড়ে ওঠে আগামীর পথচলা।