২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর চালু হওয়া এই পিপিপি প্রকল্পে টোল আদায় শুরু থেকেই ওরিয়নের হাতে। ডিএসসিসির তথ্য বলছে, ১১ বছরের বেশি সময়ে ৪,১৫৭ দিনের মধ্যে মাত্র ১,৭৬৫ দিনের টোলের ভাগ পেয়েছে করপোরেশন; বাকি ২,৩৯২ দিনের কোনো অংশ দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে বকেয়া না মিটিয়েই ওরিয়ন চুক্তির মেয়াদ আরও ২,০৩৪ দিন বাড়ানোর আবেদন করেছে। তাদের দাবি, চুক্তিতে নির্ধারিত দৈনিক ৪৩,২৮৩টির তুলনায় কম যানবাহন চলায় রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। দয়াগঞ্জ–পোস্তগোলা লিংক রোড, সিটি বাইপাস, গুলিস্তানের যানজট, রিকশা চলাচলসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়েছে তারা।
ডিএসসিসি কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তির দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই বারবার অর্থ দেওয়া বন্ধ করছে ওরিয়ন। ২০২০ সালের এক সমীক্ষায় প্রতিদিন ৯৪ হাজারের বেশি যান চলাচলের তথ্য মিললেও সে অনুযায়ী রাজস্ব পাওয়া যায়নি। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সব মিলিয়ে মাত্র ৪০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, এরপর আবার বন্ধ।
মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের পর ডিএসসিসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে টোল আদায়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি, তথ্য গোপন, স্লিপ ও ডিজিটাল পেমেন্টের হিসাব অস্পষ্ট, চুক্তির শর্ত ভঙ্গসহ নানা অনিয়মের কথা উঠে আসে। নিরপেক্ষ অডিট, আইটি নজরদারি, লাইভ ডাটা অ্যাক্সেস এবং বকেয়ার ওপর সুদ আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও নিরপেক্ষ অডিটর নিয়োগ, সফটওয়্যার-ডাটাবেসে করপোরেশনের প্রবেশাধিকার এবং স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
ওরিয়নের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।