সূত্র জানিয়েছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে। ইউনূসের বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, নিজের নামে ট্রাস্ট গঠন করে গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম হয়েছে। আয়কর ফাঁকি, অর্থ আত্মসাৎ এবং দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে অর্থ পাচারের দাবিও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযোগে মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়ন ও সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে অর্থ লেনদেনের কথা বলা হয়েছে। একটি অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, জালিয়াতির মামলায় এক শিল্প গ্রুপের সিইওকে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জামিনে সহায়তা করা হয়।
আরও অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিচারক বদলিতে ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান ও সাভারের মতো লাভজনক এলাকায় সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ১৮ মাসে একাধিক জামিন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে করানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে অন্তত আটটি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ রয়েছে। একটি আবেদনে তার স্বামীর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টতা তদন্তের অনুরোধও করা হয়েছে।
সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বিরুদ্ধে একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ এসেছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধেও টেন্ডার জালিয়াতি ও হাসপাতাল ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। দুদক সূত্র বলছে, তার বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বহু অভিযোগকারী নাম-ঠিকানাসহ ঘুষ নেওয়ার তথ্য দিয়েছেন। বিদেশে অর্থ পাচার ও অবৈধ বিটকয়েন লেনদেনের বিষয়ও অভিযোগে রয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধেও টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভিযোগে প্রাথমিক সত্যতা মিললে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। তবে অভিযোগকে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না, আমলযোগ্য বা অযোগ্য হওয়ার যুক্তিও স্পষ্ট করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন