সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন গ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশন প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইনসহ কমিশনের সদস্যরা। সরকারের পক্ষে আইন, শিল্প, তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে বড় অংশের আসনে কোনো প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না এবং বাকি আসনগুলোতেও ফলাফল ছিল আগেভাগে নির্ধারিত। ক্ষমতাসীন দলকে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে পরিকল্পিতভাবে এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল বলে কমিশনের পর্যবেক্ষণ।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ২০১৮ সালের নির্বাচনকে দৃশ্যত প্রতিযোগিতামূলক দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিরোধী দলগুলো পুরো পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে অংশ নিলেও বাস্তবে ফল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।
কমিশনের হিসাবে সে বছর অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের আগেই ব্যালটে সিল দেওয়া হয়, যার ফলে কোথাও কোথাও ভোটের হার শতভাগ ছাড়িয়ে যায়।
২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো না থাকায় তথাকথিত ডামি প্রার্থী দাঁড় করিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরির কৌশল নেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এসব ঘটনার কথা আগে শোনা গেলেও এখন প্রমাণসহ পুরো চিত্র সামনে এসেছে। জনগণের অর্থে নির্বাচন আয়োজন করে সেই জনগণের ভোটাধিকারকে খর্ব করা হয়েছে, যা জাতির জন্য অপমানজনক। যারা জড়িত ছিল তাদের ভূমিকা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে এবং কীভাবে এসব হয়েছে তার পূর্ণ নথি রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন কিছু আর না ঘটে, সেজন্য শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণ যেন অন্তত ন্যায়ের কিছুটা স্বাদ পায়, সেই লক্ষ্যেই দায়ীদের চিহ্নিত করা জরুরি।
কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিন নির্বাচনের নকশা নেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে ব্যবহার করা হয়। এ জন্য বিশেষ একটি নির্বাচন সেলও গড়ে তোলা হয়েছিল।
২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে নির্বাচন পরিচালনার কর্তৃত্ব ধীরে ধীরে নির্বাচন কমিশনের হাত থেকে প্রশাসনের কাছে চলে যায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে করে কমিশনের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে নেয় প্রশাসনিক কাঠামো।