এ নিয়ে আগামী বুধবার (৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বান করা হয়েছে। এতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় ঠিক করে তা ঘোষণা করবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই নতুন মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি কেনার প্রস্তুতি এখনই নিতে হচ্ছে।”
“নানান দপ্তর ও কমিটির অনুমতি নিতে সময় লাগে। তাই আগেই কাজ শুরু করা হচ্ছে।” বলে জানান তিনি।
এদিকে, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের ঢাকায় থাকার জন্য নতুন বাসা খোঁজার কাজও শুরু করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে গঠিত একটি কমিটি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে ২০ জুলাই মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের মে মাসে মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের জন্য ২৫টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট ও ব্যয়ের কড়াকড়ির কারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটি সেই প্রস্তাব অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠায়।
সরকারি গাড়ি কেনা ও দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর জানায়, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কতদিন একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন, তা নির্দিষ্ট কোনো নিয়মে বলা নেই। তবে ১৯৮০ সালের এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে ১০ বছর পরপর সরকারি গাড়ি প্রতিস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৬ সালের পর থেকে মন্ত্রীদের জন্য নতুন কোনো গাড়ি কেনা হয়নি। ফলে এখন ব্যবহৃত গাড়িগুলোর বয়স প্রায় ৯ বছর হয়ে গেছে। উপদেষ্টারাও ওই পুরনো গাড়িগুলোই ব্যবহার করছেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিদেশি অতিথি ও ভিআইপিদের জন্য ২০টি মার্সিডিস বেঞ্জ গাড়ি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রতিটি গাড়ির দাম ধরা হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ৫০টি টয়োটা ক্যামরি হাইব্রিড গাড়ি কেনার প্রস্তাবও ছিল, যার প্রতিটির দাম ছিল ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট ও ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় এসব প্রস্তাব বাতিল করে দেয়।
এর আগে, ২০১৮ সালে ঢাকায় ওআইসি সম্মেলনের জন্য ৩০টি মার্সিডিস ও বিএমডব্লিউ গাড়ি কেনা হয়েছিল। সেই গাড়িগুলোর কয়েকটি তখনকার সিনিয়র মন্ত্রীদের দেওয়া হয়, কিছু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এবং বাকিগুলো সরকারি গাড়ি বহরে রাখা হয়।