বাংলাদেশ পুলিশের নতুন ইউনিফর্মের জন্য কাপড় সরবরাহের ১৪১ কোটি টাকার কাজ বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপকে দেওয়ায় ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা বিচারাধীন থাকায় এ ক্রয় সিদ্ধান্ত প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দরপত্র প্রক্রিয়ায় শর্ত এমনভাবে রাখা হয়েছিল যে প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ সীমিত হয়। এতে শুধু একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানই সুবিধা পায় এবং শেষ পর্যন্ত নোমান গ্রুপ ১৪১ কোটি টাকার কার্যাদেশ পায়। বাজারদরের তুলনায় দাম অনেক বেশি হওয়ায় রাষ্ট্রীয় অর্থের অযথা ব্যয় হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে ইউনিফর্ম ব্যবহার শুরু হওয়ার পর পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ডিজাইন, কাপড়ের মান এবং ফিটিং প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় একাধিক ইউনিটের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নতুন পোশাকে আরাম কম এবং মানও সন্তোষজনক নয়। এমন পরিস্থিতিতে বাহিনীর মধ্যে রসিকতা ও হাসাহাসিও চলছে, যা অফিসারদের মতে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তির জন্য অস্বস্তিকর।
ক্রয় প্রক্রিয়া এবং দর মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাবনার সব দিক সমানভাবে বিবেচনা করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলছে, তাদের কাছে বড় সরকারি কাজ দেওয়ার আগে বিশেষ যাচাই-বাছাই করা জরুরি।
দুর্নীতি দমন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, নোমান গ্রুপের কার্যাদেশ এবং নতুন অভিযোগগুলো তাদের নজরে আছে। প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ বা নোমান গ্রুপ এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সুশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্থার পোশাক ক্রয়ে স্বচ্ছতা না থাকলে এটি শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করে। তারা পুরো ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।