গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বরিয়াবহ এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের সময় ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনা ঘটে। আনন্দঘন আয়োজন মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়, যখন নৌকা ডুবে যায় দুই শিশু—তন্ময় চন্দ্র দাস (৯) ও অঙ্কিতা মনি দাস (৪)।
দুজনেই হিজলতলী গ্রামের বাসিন্দা। তন্ময় স্থানীয় তাপস চন্দ্র মনিদাসের ছেলে, অঙ্কিতা প্রভাস মনি দাসের মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নিতে স্থানীয়রা একটি বড় নৌকা সাজিয়ে নদীতে নামেন। প্রায় ২০ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে প্রবল স্রোতে ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়। যাত্রীরা পানিতে ঝাঁপ দিলেও তন্ময় ও অঙ্কিতা তলিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস ও সাভার ডুবুরি ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুই দিনের চেষ্টার পর শুক্রবার অঙ্কিতা ও শনিবার তন্ময়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত তন্ময়ের বাবা তাপস চন্দ্র মনিদাস বলেন,“ছেলেটাকে বুকে আগলে রাখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ও জেদ করে নৌকায় বসে গেল। ডাকাডাকি করেও ফেরাতে পারিনি।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় হিজলতলী গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোক। নদীর তীরে এখন কেবল কান্না আর হারানোর বেদনা। আনন্দঘন বিসর্জন মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে মৃত্যুর মিছিলে। স্থানীয়রা জানান, নৌকাটিতে যাত্রী বেশি ছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। নদীর প্রবল স্রোতই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বলেন,“স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযান কঠিন ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,“এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নদীতে নিরাপত্তা ও যাত্রী নিয়ন্ত্রণ জরুরি। প্রশাসনের উচিত এসব অনুষ্ঠানে নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
দুই শিশুর মৃত্যুতে হিজলতলী গ্রাম শোকের ছায়ায় স্তব্ধ। উৎসবের রঙ মুছে নদীর পাড়ে এখন নীরবতা আর কান্না।