মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রার সূচনা হয়। এতে বিভিন্ন বয়স, শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ধীরে ধীরে অংশগ্রহণকারীর ঢলে চারুকলা এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু।
এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। শোভাযাত্রাটি রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি ঘুরে আবার চারুকলা অনুষদে ফিরে এসে শেষ হয়।
চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া এই আয়োজনে ছিল বর্ণিল মুখোশ, বিশাল আকারের মোটিফ এবং লোকজ শিল্পের নানান রূপ। পুরো পথজুড়ে মানুষের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস শোভাযাত্রাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পুরো এলাকায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থাও সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখে।
শোভাযাত্রার অগ্রভাগে ছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আকর্ষণ ও উচ্ছ্বাস তৈরি করে।
শুরুতেই জাতীয় পতাকা হাতে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী শোভাযাত্রায় অংশ নেন। মূল ব্যানারের নেতৃত্ব দেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
শোভাযাত্রায় পাঁচটি প্রধান প্রতীকী মোটিফ স্থান পায়, যেগুলো আলাদা আলাদা বার্তা বহন করে। ‘মোরগ’ নতুন ভোর ও গণতান্ত্রিক জাগরণের প্রতীক হিসেবে, ‘হাতি’ লোকজ ঐতিহ্য ও শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে, ‘টেপা ঘোড়া’ গ্রামীণ সংস্কৃতির স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে, ‘পায়রা’ শান্তি ও সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে এবং ‘দোতারা’ বাউল সংস্কৃতির ঐক্য ও তাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
এছাড়া ১৫০ ফুট দীর্ঘ স্ক্রল পেইন্টিং শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল। এর পাশাপাশি বাঘ, মাছ, ময়ূর ও হরিণ শাবকের নান্দনিক প্রতিকৃতি পুরো আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করে।
বিশেষভাবে নজর কাড়ে পাঁচটি পটচিত্র। এতে স্থান পায় সুন্দরবনের ‘বনবিবি’, সম্রাট আকবর, বাংলাদেশের ইতিহাস ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চিত্র, গাজীর পট এবং মনসামঙ্গলের বেহুলা চরিত্রের উপস্থাপনা।