ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান হাদির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বলেন, তার কন্ডিশন অত্যন্ত গুরুতর। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘ক্রিটিক্যাল’ বলা হয়, ঠিক সেই অবস্থায় আছেন তিনি। হাসপাতালে আনার সময়ও তার শরীরে জীবিত থাকার লক্ষণ বা ‘সাইন অব লাইফ’ ছিল। এমনকি অস্ত্রোপচারের সময়ও নিজস্ব শ্বাসপ্রশ্বাসের চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি আরও জানান, অপারেশন চলাকালে হাদির দুইবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ ঘটে। নাক ও মুখ দিয়েও রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল। এ অবস্থায় চিকিৎসকরা কোনো আশাবাদী মন্তব্য করতে পারছেন না। তবে তিনি এখনও বেঁচে আছেন, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলে উল্লেখ করেন ডা. জাহিদ রায়হান।
চিকিৎসকদের ধারণা অনুযায়ী, হাদির মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি প্রবেশ করে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। তবে গুলির কিছু ক্ষুদ্র ফ্র্যাগমেন্ট বা অংশ মস্তিষ্কের ভেতরে রয়ে গেছে। অস্ত্রোপচারের সময় সেগুলোর কয়েকটি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এসব অংশ মগজের গভীর কেন্দ্রীয় স্থানে থাকায় সেগুলো অপসারণের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা।
উন্নত আইসিইউ সাপোর্ট নিশ্চিত করতে পরিবারের সিদ্ধান্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে হাদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে অটোরিকশায় যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়, যেখানে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।