বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য-সচিব কনক চন্দ্র রায় বলেন, "এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ৮ শিক্ষার্থীর নাম নিশ্চিত হওয়ায় তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে আরও জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন: অন্তু দেওয়ান (২৭ ব্যাচ), আসাদুর রহমান (৩২ ব্যাচ), আশরাফুল ইসলাম (৩২ ব্যাচ), তরিকুল ইসলাম (২৭ ব্যাচ), মেহেদী হাসান (২৮ ব্যাচ), নাঈম (৩২ ব্যাচ), মেহেদী (৩২ ব্যাচ), আসিফ রহমান লাবিব (২৮ ব্যাচ)।
রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, "আপনার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম লঙ্ঘন করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শের আলীকে র্যাগিং এবং নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে আপনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অনুমতি নেই।"
ঘটনা ঘটে গত সোমবার (২৪ নভেম্বর) মধ্যরাতে। আহত শিক্ষার্থী শের আলী রংপুরের পীরগঞ্জের মাহমুদপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি চিকিৎসার জন্য আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে শের আলীর সহপাঠীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও লিখিত অভিযোগ দেন। প্রশাসন দ্রুত দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। বুধবার দিনভর শের আলীর সহপাঠীরা বিক্ষোভ করেন এবং দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-গকসু প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে অভিযুক্ত অন্তু দেওয়ানের সমর্থনে ২৫-৩০ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেন। সন্ধ্যায় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আটজনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।
ভুক্তভোগী শের আলী গণমাধ্যমকে জানান, “রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমাকে মেসে আটকে রেখে টানা ৫–৬টা চড়-মারধর করা হয়। প্যান্ট খুলতে বললে অস্বীকৃতি জানানোর পর অন্তু দেওয়ান পেটে লাথি মারে। মেহেদী ও আশরাফুলও চড় মারতে থাকে। শেষে আমি মাফ চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেই। পরে হাসপাতালে ভর্তি হই।”
তিনি বিচার দাবি করে বলেন, “ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”