চুরি হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এম ৪ কারবাইন রাইফেল এবং ব্রাজিলের টরাস পিস্তল। তবে প্রতিটি অস্ত্রের সঠিক সংখ্যা এবং ধরনের বিস্তারিত এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
গত ১৮ অক্টোবর কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ আগুন লেগেছিল। প্রায় ১৭ ঘণ্টা ধরে জ্বলা আগুনে আমদানি করা মালপত্রের বড় অংশ পুড়ে যায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকার আশপাশে হতে পারে। তবে স্ট্রং রুমের ভল্ট অক্ষত থাকায় মূল্যবান জিনিসপত্র, শুল্কসংক্রান্ত নথি, সোনা, হীরা ও অস্ত্রের বড় অংশ নিরাপদ ছিল। আগুন নেভানোর পর বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে ভল্ট সিলগালা করা হয়েছিল।
২৪ অক্টোবর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি স্ট্রং রুম পরিদর্শন করেন। তারা ভল্টের লক খোলা এবং ট্রাংক ভাঙা অবস্থায় পায়। ওই সময় সেখানে ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়, যার মধ্যে তিনটির পেছনে আংশিক পোড়া চিহ্ন ছিল। পরে ভল্ট মেরামত করে পুনরায় সিল করা হয়।
বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ভল্টে মূলত বাংলাদেশ পুলিশের জন্য এবং বৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের আমদানি করা অস্ত্র রাখা হতো। স্ট্রং রুমে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও, চুরি হওয়া সাতটি অস্ত্রের বিষয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সোনা ও হীরা নিরাপদ রয়েছে। তবে আগুনে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট হওয়ায় ফুটেজ পাওয়া যায়নি। বিমানবন্দর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তবে ঘটনার পুরো চিত্র এখনও পাওয়া যায়নি।
ঘটনা তদন্তে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারাও ভল্টের নিরাপত্তা তদারকি করছেন। একাধিক সংস্থার স্বাক্ষর ছাড়া স্ট্রং রুমের ভল্ট থেকে কোনো পণ্য বের করা সম্ভব নয়, তবু এই চুরি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।