বিবৃতিতে তিনি বলেন, এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আনন্দ ও প্রশান্তির বার্তা নিয়ে ঈদুল ফিতর উপস্থিত হয়েছে। এমন এক সময়ে জাতি ঈদ উদযাপন করছে, যখন দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। দীর্ঘ অগণতান্ত্রিক শাসনের অবসানের পর জনগণের প্রত্যাশা—দেশে আর কেউ স্বৈরাচারী পথে হাঁটবে না। মানুষ যেন নির্ভয়ে চলাফেরা ও মতপ্রকাশ করতে পারে, সমাজে ভেদাভেদ ও বৈষম্য না থাকে, নাগরিকের জানমাল ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করবে—এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক সনদের পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করে কোনো টালবাহানা গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকার ও বিরোধীদলকে একসঙ্গে কাজ করে জুলাইয়ের অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি সেইসব মানুষের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন, যাদের অবদানে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশ পেয়েছে। মহান আল্লাহর কাছে তাদের শহীদের মর্যাদা কামনা করেন। পাশাপাশি আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের দ্রুত সুস্থতা প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, তাকওয়া ও আল্লাহভীতির চর্চার মধ্য দিয়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আল্লাহর বিধান মেনে চলার যে শিক্ষায় মুসলমানরা এক মাস অনুশীলন করেন, তার পরেই আসে ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্ত। এই ঈদ শান্তি, সম্প্রীতি ও আনন্দের বার্তা বহন করে এবং ধনী-গরিব সবার মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে।
ঈদের দিনে সব বিভেদ ভুলে দয়া, সৌহার্দ্য, সাম্য ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সহিংসতা ও বিদ্বেষমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি অবহেলিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর জোর দেন। সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, দলীয় ও ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবনের কামনা করছি। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা—পবিত্র ঈদুল ফিতর মোবারক।