রাজউকের নথিপত্র অনুযায়ী, জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় কানুনগো (এস্টেট ও ভূমি-৩) বরাবর ফাইল পাঠানো হলেও পূর্বাচল প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী দখলপত্রে স্বাক্ষর করেননি। পরে পরিস্থিতি জটিল হলে উভয় পক্ষের মতামত জানতে চেয়ে চিঠি পাঠায় কর্তৃপক্ষ।
জমির সীমানা ও বিভাজন নিয়েও মতবিরোধ দেখা দেয়। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ৮৩ দশমিক ৩ কাঠার প্লটের পশ্চিম পাশে ১৬০ ফুট রাস্তা চাওয়া হয়। তবে ইসকন প্লট বিভক্ত না করার অবস্থান নেয় এবং পরে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট করে, যার নম্বর ১৫৪০৮/২০২৩।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বাচলের এই জমি বরাদ্দ স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকার উপেক্ষা করে দেওয়া হয়েছে। একজন পুরোনো বাসিন্দা দাবি করেন, আশপাশের গ্রামগুলোতে একসময় হাজারো হিন্দু পরিবার থাকলেও এখন একটি নির্ধারিত ধর্মীয় স্থানের সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তার দাবি, বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা একটি গোষ্ঠীকে জমি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইসকনের বিরুদ্ধে একই সংগঠনের নামে একাধিক জমি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এর আগে ২০১৩ সালে উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পের ১৭-ই সেক্টরে সাড়ে ৩৫ কাঠা জমি মাত্র এক লাখ এক টাকায় বরাদ্দ পায় সংগঠনটি। বর্তমান বাজারমূল্যে ওই জমির মূল্য প্রায় ৫২ কোটি টাকা, যেখানে এখন গড়ে উঠেছে রাধাবর্মন টেম্পল।
এই ধারাবাহিক বরাদ্দ নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদরা প্রশ্ন তুলেছেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একটি ধর্মীয় বা সামাজিক সংগঠন একবার জমি পাওয়ার পর একই প্রকল্পে পুনরায় বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, একাধিক বরাদ্দ প্রশাসনিক ও নীতিগত প্রশ্ন তৈরি করে।
অন্যদিকে ইসকন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্বামীবাগ মন্দিরের হিসাবরক্ষক জানান, সংগঠনটি দান বা দেবোত্তর জমিতেই কার্যক্রম চালায় এবং পূর্বাচলের জমি স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় দিয়েছেন বলে দাবি করেন। একই মন্দিরের আরেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ওই এলাকার সবাই সরকার থেকে প্লট পেয়েছে, সেখানে আগে কোনো মন্দির ছিল না। তাদের দাবি, তারা নিয়ম মেনেই জমির অর্থ পরিশোধ করেছে এবং বিতর্ক রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ থেকে তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং কাগজপত্র দেখে পরে মন্তব্য করবেন।